
দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে ডুবে গেছে উত্তরের কয়েকটি জেলায় অনেক ফসলি জমি।তিস্তা, ঘাঘটসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে আলু, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা রবিশস্যের ক্ষেত ডুবে কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।
হঠাৎ উজানের ঢল নেমে ভাটি অঞ্চলখ্যাত বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তাবেষ্টিত লালমনিরহাট ও নীলফামারী ছাড়াও রংপুরের গঙ্গাচড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, তিস্তার পানি দোয়ানি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা ব্যারাজের সড়কের ‘ফ্লাড বাইপাস’ ভেঙে গেছে। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।আকস্মিক বন্যার তোড়ে গঙ্গাচড়া উপজেলার ছালাপাক, চর চল্লিশা, আলমবিদিতর, লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, নোহালী ও গজঘণ্টার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে আছে।নদীঘেঁষা চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অনেকেই উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেয়। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চরইশরকুল, ইছলি, পূর্ব ইছলি, পশ্চিম ইছলি ও শংকর, বাগেরহাট, কেল্লারহাটসহ বেশকিছু নিচু এলাকায় কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে আছে।
নদীতীরবর্তী মানুষজনকে নিরাপদ স্থানসহ আশ্রয় কেন্দ্রে আসার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, উজানে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিস্তা পয়েন্টে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ পানিপ্রবাহ। এ জন্য আমরা তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে নদীর পানিপ্রবাহ অব্যাহত রেখেছি।
বাংলাটিভি/শহীদ



