
তিস্তার লাগামহীন ভাঙ্গনে,লালমনিরহাটের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার শেষ প্রান্তে এখন, হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের চিলমারী পাড়া নামের একটি গ্রাম। ৫০ বছর আগে মাত্র ৭টি পরিবার নিয়ে গ্রামটি গড়ে উঠেছিল তিস্তা নদীর বুকে। ধীরে ধীরে গ্রামটিতে বসবাস শুরু করেন ২৫০টি পরিবার। সবুজে শ্যামলে ভরা গ্রামটি এখন তিস্তার গর্ভে। বসতভিটা আবাদি জমি হারিয়ে এই গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ এখন দিশেহারা।
গেল কয়েক সপ্তাহ আগেও এখানে বসতভিটা ছিলো। ফসলে ভরা ছিলো আবাদি জমি, ছিলো প্রাণের স্পন্দন। এখন শুধুমাত্র তিস্তার উদরে হারিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে,গ্রামটির একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক।যা দু‘এক দিনের মধ্যেই তিস্তার বুকে হারিয়ে যাবে বলে ধারনা স্থানীয়দের।
বসতভিটা গেছে তিস্তার উদরে। ঘর-বাড়ি ও আসবাবপত্র নৌকায় নিয়ে তিস্তার বুকে ভাসছেন,ভাঙনকবলিতরা। ছুটছেন এক টুকরো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। আশ্রয় মিলবে কিনা, তাও অনিশ্চিত।
বসতভিটা আবাদি জমি হারিয়ে কাঁদছে, চিলমারী পাড়ার মানুষ। এক গ্রামে পাশাপাশি থেকে বসবাস করার মমত্ববোধ ও প্রেমকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তিস্তা। আবার একে অপরের সাথে কবে দেখা হবে, তা কেউ জানেনা।
কেউ খোঁজ রাখেনি এই গ্রামের মানুষগুলোর। তাই কষ্টভরা অশ্রুতে মিশে একাকার তারা। অসহায় হয়ে ছেড়ে যাচ্ছেন অনেকের জন্মস্থান চিলমারী পাড়া গ্রামটি। হয়তো একদিন চর জাগলে দেখতে আসবেন, আজকের চলে যাওয়া ভাঙনকবলিতরা।
তবে তিস্তার ভাঙ্গনের শিকার ক্ষতিগ্রস্থদের পূণর্বাবাসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
যুগ যুগ ধরে শুনে আসা আশ্বাসের বানীতে আর ভরসা রাখতে পারছেনা ভাঙ্গন কবলিত এই অসহায় মানুষগুলো। তারা চায় দ্রুত কারযকর ব্যবস্থা।
ডেস্ক রিপোর্ট/বাংলা টিভি/এস



