Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
দেশবাংলাউন্নয়ন

করোনা সংক্রমণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ’র অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল তাঁর নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জে  করোনা প্রতিরোধে সম্মিলিত কার্যক্রম পরিচালনা করে সফলতা প্রদর্শন করেছেন। সংসদ সদস্য ও তাঁর সহযোগীদের এ আসাধারণ সাফল্যের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার লক্ষ্যে আজ ৪ জুলাই ২০২১,

রোববার, সকাল ১১.০০টায় একটি অনলাইন অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ড. বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ডা. আবু জামিল ফয়সাল, জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ-এর যৌথ আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ডা সমিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও যুক্ত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মো: আয়েন উদ্দিন এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মনরঞ্জন শীল গোপাল এমপি, মাননীয় সংসদ সদস্য  ফেরদৌসি ইসলাম এমপি,  মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শহীদুজ্জামান এমপি,  জনাব মোশতাক হোসেন, উপদেষ্টা, আইইডিসিআর, ডা. মোজাহেরুল হক,  প্রফেসর নজরুল ইসলাম, জনাব আবুল কালাম আজাদ, সাবেক মুখ্য সচিব, জনাব সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, জনাব আহমেদ মোশতাক রেজা চৌধুরি, রুহিন হোসাইন প্রিন্স, আদিবা আনঞ্জুম মিতা এমপি, ড. তোফায়েল আহমেদ, ডা. তৌফিক জোয়ারদার, ওয়াল্ড হেল’ অর্গানাইজেশনের কনসালটেন্ট, ড. জিয়াদুল করিম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, সুভাস সিংহ রায় প্রমুখ। আলোচনাটি পরিচালনা করেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের স¤পাদক জনাব নাছিমা আক্তার জলি।

ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেনঃ চারটি ধাপের এই কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়, কমিউনিটি মোবিলাইজেশন, রিস্ক কমিউনিকেশন, স্ক্রিনিং ও রোগী ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক প্রভাব মিটিগেশন।

শুরুতে প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, বেসরকারি সংস্থা এবং নারী-পুরুষ-তরুণসহ সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সংগঠিত করে জেলা, উপজেলা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে  করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর একটি কার্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করে কাজ শুরু করি।

পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে জনগণকে ঝুঁকি সম্পর্কে  সচেতন করা হয়। লিফলেট, মাইকিং, মাস্ক বিতরণ ও হাত ধোয়া কার্যক্রম প্রদর্শনের মাধ্যমে এইসব সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তৃতীয় ধাপে করোনা পজিটিভ রোগীদের আইসোলেশন এবং সর্বাত্নক সহযোগিতা দেওয়া হয়। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিবগঞ্জ হাসপাতালে একটি করোনা ইউনিয়ন খোলা হয়েছে, যার শয্যা সংখ্যাও বাড়নো হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে ভ্যাকসিন গ্রহণে উৎসাহিত করতে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিবগঞ্জে মে মাসের শেষের দিকে করোনা সংক্রমণের হার ছিল ৬২%, আমাদের এই কার্যক্রম পরিচালনার পর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে সংক্রামণের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসে। যদিও  এখন একটু বেড়েছে, তবে সেটি খুব বেশি না। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণের হারও এখানে অনেক কম। একটি জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, শিবগঞ্জে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার হার প্রায় ৬৬ শতাংশ, পার্শ্ববর্তী এলাকাতে যা মাত্র ৩০ শতাংশের মতো।

বদিউল আলম মজুমদারঃ বলেন, একজন সংসদ সদস্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন। সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করেছেন। একাত্তর সালে বঙ্গবন্ধু ঘরে ঘরে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন,  সেজন্যই আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয় লাভ করতে পেরেছিলাম। মাননীয় সংসদ সদস্য এবং তাঁর সহযোগীরাও একটা গণআন্দোলন তৈরি করতে পেরেছেন। একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছেন। সামাজিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের একটা সুনাম  আছে। এই ঐতিহ্যকে তারা কাজে লাগিয়েছেন, বিরাট সফলতা অর্জন করেছেন।

শহীদুজ্জামান এমপিঃ বলেন,  আমাদের রাজনীতিবিদদের আরও দৃঢ়চিত্ত হয়ে সকলকে সাথে নিয়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাতে কাজ করতে হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটি একটি আদর্শ মডেল হতে পারে। আমাদের মতো  অপ্রতুল সম্পদ এবং জনবহুল দেশে কমিউনিটিকে নিয়ে কাজ করার কনো বিকল্প নেই। যতই ভ্যাকসিন আসুক শর্টেজ থাকবেই, যতই হাসপাতালে বেড বাড়ান শর্টেজ থাকবেই – এজন্য সামাজিক জিনিসগুলো অনেক বেশি কার্যকরী।

সুভাশ সিংহ রায়: বলেন, আমি অভিভূত। রাজনীতিবিদরা যে পারেন এটি তারই প্রমাণ।

মুশতাক হোসেনঃ বলেন, অন্যান্য এলাকায় কীভাবে রিপ্লিকেট করা যায় সেটা দেখতে হবে।  সরকার এবং জনগণের মধ্যে স¤পর্ক তৈরি করে যে কাজ করেছেন সেটা আমরা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি জাতীয় কমিটি আছে, স্থানীয় পর্যায়ে যে করোনা প্রতিরোধ কমিটিগুলো সক্রিয়  করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি এলাকাতে রোগী যেখানেই পাওয়া যাবে,  সেখানেই কমিউনিটি কন্টেইমেন্ট করার ব্যবস্থা করতে হবে।

ফজলে হাসান বাদশাঃ এমপি বলেন,  গ্রাসরুট লেভেল থেকেই অনেক প্রাথমিক রোগীকে সারিয়ে তুলতে পারি। এজন্য গ্রাসরুট লেভেলে কাজ করাই অনেক কার্যকর বলে আমার মনে হয়।

মনোরঞ্জন শীল বলেনঃ ডা শিমুল সকল স্তরের জনপ্রতিনিধিদের স¤পৃক্ত করতে পেরেছেন। অন্যান্য জেলাগুলোতেও জনসম্পৃক্ততা তৈরি করতে পারলে আমারা আরও অনেক বেশি সফল হতে পারতাম।  সবাইকে সাথে নিলে সবার মধ্যে একটা দায়বদ্ধতা তৈরি হবে এবং কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের ভ’মিকা রাখতেও চেষ্টা করবে।

আব্দুল কুদ্দুস এমপিঃ বলেন,  আমাদের বড় চিকিৎসা হচ্ছে মাস্ক পরা, দূরত্ব বজায় রাখা অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। জনগণ যাতে এগুলো মেনে চলে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মোজাহেরুল হকঃ বলেন,  বাংলাদেশ কমিউনিটি এনজেঞ্জমেন্টে খুব একটা ভাল করতে পারেনি। কমিউনিটি স¤পৃক্ততা মাস্ট। আরেকটা জিনিস হচ্ছে আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা দরকার, এটি না থাকলে যেটা অর্জন করতে চাই সেটা করতে পারব না।  পাশাপাশি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা ঠিক করে দিতে হবে। তাহলে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব।

ফেরদৌসি ইসলাম এমপিঃ বলেন,  জেলা প্রশাসন, জন প্রশাসন , জনপ্রতিনিধি এবং জনগণ সবাইকে একসঙ্গে হয়ে কাজ করতে হবে, তাহলেই এটি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

ডা. আবু জামিল ফয়সালঃ বলেন,  একটি বিষয় পরিষ্কার যে, মানুষ যদি স¤পৃক্ত হয় তাহলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যাবে। সেজন্য এটিকে চলমান রাখতে হবে।

বাংলাটিভি/ এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button