
ঝিনাইদহের অমঙ্গল গ্রামে এসেছে মঙ্গলের বার্তা। প্রায় শতাব্দী পর গ্রামটিতে স্বাস্থ সেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের পাশাপাশি,মানুষকে পুনর্বাসিতও করা হচ্ছে। আর এসব সুবিধা সম্প্রসারনের মাধ্যমে, অমঙ্গল নামে পরিচিতি পাওয়া গ্রামটি ক্রমান্বয়ে, মঙ্গল গ্রামে পরিণত হতে চলেছে,এমনমত সচেতন মহলের।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার মঙ্গলপুর মৌজায় অবস্থিত, মঙ্গলপুর গ্রামের আয়তন এক বর্গ কিলোমিটার। কথিত আছে,প্রায় ১শ বছর আগে, এখানে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষ ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। সেসময় হঠাৎ কলেরা বা গুটি বসন্তের মহামারিতে মারা যায়, অসংখ্য মানুষ। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে, ভারতসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়।এতে জনশুণ্য হয়ে পড়ে গ্রামটি। সেই থেকে পরিচিতি লাভ করে, অমঙ্গল গ্রাম হিসেবে।
কয়েকটি পুকুর,দরগা আর মাটির উঁচু ডিবা স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকে। বসতি স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও, অমঙ্গল হবে এমন আতঙ্কে সেখানে যেতে চাইতোনা কেউ। তবে,সে আশার কথা হচ্ছে,মঙ্গলপুর গ্রামের ‘অমঙ্গল’ কাটিয়ে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে, নতুন করে বসতি শুরু হতে যাচ্ছে। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত হয়েছে,ঘর।পাশাপাশি নেয়া হচ্ছে,উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা ।
বসবাসের জন্য ঘরের পাশাপাশি স্বাস্থ সেবায়,কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণে এ গ্রামে এখন শুধুই মঙ্গলের সুবাতাস বইছে বলে জানায়,এলাকাবাসী ও আশ্রয়ন প্রকল্পে পুনর্বাসিতরা।
২০২০ সালে নির্মিত কমিউনিটি ক্লিনিকে, বিভিন্নস্থান থেকে সিএইচসিপিদের এনে, সপ্তাহে ৩ দিন শুধূ স্বাস্থ বিষয়ক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে, পুর্নাঙ্গরুপে চালু করতে প্রয়োজনীয় লোকবল ও ঔষধ বরাদ্দ চেয়ে, চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান,স্বাস্থ বিভাগের কর্মকর্তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান,কমিউনিটি ক্লিনিকের সাথে বসতিও তৈরি হচ্ছে। ধীরে ধীরে গ্রামটিতে আরো বসতি গড়ে ওঠার পাশাপাশি, কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে।
সরকারের এমন উদ্যোগে,সকল অমঙ্গল কেটে গড়ে উঠবে আরো বসতি, লাগবে উন্নয়নের নানা ছোঁয়া,এমন প্রত্যাশা সবার।
ডেস্ক রিপোর্ট/বাংলা টিভি/এস



