
অসংখ্য আত্মীয়- স্বজন, বন্ধু এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের চোখের জলে চির বিদায় নিলেন বাংলা টিভির ইউকের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ খান। বাদ জোহর রাজধানীর কলাবাগানের বশীর উদ্দিন রোড জামে মসজিদে জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরে সমাহিত করা হয় প্রবাসী এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ীকে।
১৯৯৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশের বাইরের প্রথম বাংলা টেলিভিশন বাংলা টিভি চালু হয়। ফিরোজ খান ম্যানচেষ্টারের একজন বিজ্ঞাপনদাতা থেকে ২০০০ সালের শেষের দিকে বাংলা টিভির মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত হোন।
ফিরোজ খান ২০০১ সালে এক পট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলা টিভির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ২০১০ পর্যন্ত তিনি বাংলা টিভির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে প্রতারণার এক মামলায় ২৭ মাসের জেল হওয়ার মাধ্যমে তার মিডিয়া জীবন এবং কমিউনিটিতে পদচারণা বন্ধ হয়। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফিরোজ খান এক প্রকার লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে যান।
এরপর দীর্ঘ ১১ বছরে এক সময়ের যুক্তরাজ্যের নানা কারণে আলোচিত থাকা ফিরোজ খান বাংলাদেশী কমিউনিটিতে প্রায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। ফিরোজ খানের গ্রামের বাড়ী বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ জেলায়।
গত ১ জুন রাতে ম্যানচেষ্টারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা ভাষায় প্রথম স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাটিভি ইউকের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও প্রবাসী ব্যবসায়ী ফিরোজ খান।
প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় দেশে পৌঁছায় তার মরদেহ। এরপর মরদেহ নিয়ে আসা হয় দীর্ঘ দিনের সৃতি বিজড়িত রাজধানীর কলাবাগানের বশীর উদ্দিন রোডের নিজ বাসভবনে। খবর পেয়ে তাকে শেষ বারের মত দেখতে ছুটে আসেন আত্বিয় স্বজন। এছাড়া ছুটে আসেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু এবং বাংলা টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সামাদুল হক।সমবেদনা জানান ফিরোজ খানের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি।
বাদ জোহর বশীর উদ্দিন রোড জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের করবে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয় বিশিষ্ট এই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ব্যাবসায়ীকে। এর আগে ম্যানচেষ্টার শাহজালাল জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা ও লন্ডনের ইস্ট লন্ডন জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাটিভি/এস



