
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের অর্ধেকের বেশিই ষাটোর্ধ বয়সী। তবে তরুণদের মৃত্যুহারও কম নয়। আর, নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুহার ৪৭ দশমিক ৬৪ ভাগ বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, মারা যাওয়া রোগীদের বেশির ভাগই অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত। সে কারণে, বয়স্ক ও জটিল রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মহামারি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় হাঁসফাঁস অবস্থা সারা বিশ্বের। সে ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে আশংকাজনক হারে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতেও রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া ৭ লাখ আর মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১০ হাজারের বেশি। লিঙ্গ বিবেচনায় নারী মৃত্যুর হার ২৬ দশমিক এক ৮, আর পুরুষ ৭৩ দশমিক ৮ দুই শতাংশ। সে হিসেবে নারীর তুলনায় পুরুষের মৃত্যুর হার প্রায় ৩ গুণ বেশি।
এদিকে, বয়স পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, করোনায় মৃত্যুবরণকারী রোগীর ৫৬ দশমিক চার ৮ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের উর্ধে। ৫১-৬০ বয়সসীমায় ২৪ দশমিক পাঁচ ৩ শতাংশ এবং ৪১-৫০ বয়সসীমার মৃত্যুহার ১১ দশমিক এক ৫ শতাংশ। আর, ৪০ বছর বয়সসীমায় আক্রান্তদের মৃত্যুহার মাত্র ৭ দশমিক আট ৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, বয়স্করাই বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে। এ কারণে, তাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেয়ার কথা বলছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে সাধারণত বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের শরীরে নানা রোগব্যাধি বাসা বাধে। আর সে কারণেই দেশে বয়স্ক মানুষের মৃত্যু বাড়ছে বলে জানালেন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মোর্শেদ।
বাংলাটিভি/টিভি



