Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
অন্যান্য

কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরির গুরুত্ব অপরিসীম

করোনাকালে দেশের বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যুব জনগোষ্ঠীর জন্য, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে হাতে কলমে শিক্ষা দিচ্ছেন। আর তত্ত্বীয় শিক্ষাগুলো ভার্চুয়াল, প্রতিটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ওয়েবসাইট, ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এতে করে তারা সুফলও পাচ্ছেন।

বর্তমান সময়ের বাস্তবতা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। যাতে করে প্রতি যুবক ও যুবানারী সঠিক কারিগরি শিক্ষা নিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, সে লক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তবে সবার সহযোগিতায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন করে আরও উন্নত ধরণের শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।

বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস পরিচালনার জন্য যাবতীয় তথ্য এবং অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারি।

আমাদের দেশে করোনার কারণে যুব জনগোষ্ঠীর একাংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। আমরা যদি তাদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে পারি- যেমন অনলাইন উদ্যোক্তা, আউটসোর্সিং,খামার ও বিভিন্ন ওয়ার্কশপ এর কাজ ইত্যাদি বিষয়ে, তবে তাদের বেকারত্ব দূর হবে এবং তারা যাতে সঠিক ও সুন্দরভাবে কোন কাজ করতে পারে সেই জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা দরকার।

আমাদের দেশে প্রত্যেকটি এলাকায় আলাদা রকমের চাহিদা রয়েছে। যেমন কোন কোন অঞ্চলে প্রযুক্তিগত ধারণা নেই, আবার কোন কোন অঞ্চলে চিকৎসাগত বিদ্যা কম। আবার শহর অঞ্চলের লোকের তাজা ও বিশুদ্ধ শাক সবজি ও কিছু পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা যদি চাহিদা অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ট্রেড চালু করি, যেমন চিকিৎসাগত ধারণার ঘটতির জয়গায় চিকিৎসা ট্রেড,যেখানে পুষ্টিকর খাবারের দরকার, সেখানে খাদ্য ট্রেড ইত্যাদি গঠন করতে পারি।

বর্তমানে করোনা মহামারীকালীন সময়ে যুব নারীদের অনেকে বাড়িতে বসে বেকার এবং অবসর সময় অতিবাহিত করছে। এখন আমরা যদি তাদের এই বেকার সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি তাহলে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। এতে করে ভোক্তারাও এর সুযোগ ও সঠিক সেবা পাবে। তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের।

এ অবস্থায়,আমরা যদি তাদের মোবাইল প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করতে পারি, তবে তারা এর মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন। যেমন ই-পণ্য সেবা, ই-লার্নিং সেবা। এ ছাড়াও আরও অনেক কিছু শিখে তা দ্বারা স্বাবলম্বী হতে পারবেন তারা।

প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে নিজেদের কর্মসংস্থান গঠন করতে পাবে সে দিকে খেয়াল রাখা দরকার। এর জন্য দরকার প্রণোদনার। তাদেরকে সঠিকভাবে প্রণোদিত করতে পারলে তারাও উদ্যোক্তা হতে পারবে। এছাড়া অনেকে হয়তো উদ্যোক্তা হতে চাইলে অর্থের অভাবে পারছেনা।

বর্তমান করোনাকালীন সময়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এর অনলাইন প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য দরকার ইন্টারনেট। আমাদের দেশে অনেক অঞ্চলে বেকার যুবকরা ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং অনেক অঞ্চলে ইন্টারনেটের সেবার মান খুবই কম। আবার কোথাও ইন্টারনেট সেবার জন্য অনেক খরচ দিতে হয়। তাই আমরা যদি বেকার জনগোষ্ঠীদের ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত এবং সহজলভ্য করতে পারি।

তবে তারা অনলাইনে সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে এবং উদ্যোগী হয়ে নিজেরা নিজেদের কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে পারবে। এছাড়াও অনেক জনগন এর ফলে সেবা পাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনে ভূমিকা রাখবে।  সাধারণ শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ ও সফলতার হার ক্রমান্বয়ে বাড়লেও, সেই তুলনায় কারিগরি শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন,কারিগরি খাতে মেয়েদের জন্য পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকলেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না। এ জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহের অভাব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশে দায়ী। কারিগরি খাতে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকার বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রতিটি বিভাগে কাজ চলছে মহিলা পলিটেকনিক স্থাপনের। ভর্তিতে ৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ কোটা চালু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যবস্থা করা হয়েছে শিক্ষাবৃত্তির।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদদের পরামর্শ,সচেতনামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। যেহেতু কারিগরি খাতের সঙ্গে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বিষয়টি জড়িত, তাই সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কর্মমুখী শিক্ষায় জোর দেয়া হচ্ছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দক্ষ জনসম্পদ তৈরির জন্য কারিগরি শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১৩ শতাংশ কারিগরি শিক্ষা নিচ্ছে। আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকগুলি কারিগরি শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ ট্রেড রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী দেশে ১০টি প্রধান প্রশিক্ষণ ট্রেড বিদ্যমান।

মাসুদ রানা, বাংলাটিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button