Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
আন্তর্জাতিকইউরোপ

করোনা প্রতিরোধে স্বপ্ন দেখাচ্ছে যক্ষ্মার টিকা

‘টিবি’ টিকা এখন স্বপ্ন দেখাচ্ছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধের লড়াইয়ে। বিবিসির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের একদল বিজ্ঞানী ইতিমধ্যে পরীক্ষা শুরু করেছেন বৈশ্বিক মহামারি করোনার হাত থেকে বিসিজি টিকা মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে কি না।

বিসিজি টিকা যক্ষ্মা প্রতিরোধের উপযোগী করে তৈরি হলেও এটা আরও কিছু সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধেও কাজ করে বলে প্রমাণ রয়েছে। সাধারণত শিশু বয়সে এই টিক প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। শিশুকালে যাঁদের এই টিকা দেওয়া আছে, তাঁদের আবার এই টিকা দিলে উপকার মিলবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

দেশটির ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটারের এক পরীক্ষামূলক প্রয়োগে (ট্রায়াল) অংশ নিচ্ছেন ১ হাজারের মতো মানুষ। আরও কয়েকটি দেশ মিলিয়ে মোট ১০ হাজার মানুষকে এই পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দৃশ্যত এ কারণেই অন্যান্য সংক্রমণের ক্ষেত্রে একই টিকায় উপকার মিলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা এই জায়গাতেই আশাবাদী হতে চাইছেন। তাঁদের আশা, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের দেহকে একটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে বিসিজি টিকা।

যুক্তরাজ্যে বিসিজি টিকার এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ আন্তর্জাতিক একটা গবেষণার অংশ। এর আওতায় অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং ব্রাজিলেও কাজ চলছে। সব মিলিয়ে ১০ হাজার মানুষকে নিয়ে এই ট্রায়াল চলবে। মূলত স্বাস্থ্যকর্মীদের দেহে টিকা প্রয়োগ করা হবে, যাঁরা করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে আছেন সবচেয়ে বেশি। গবেষকেরা আশা করছেন, এই পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁরা দ্রুত বুঝতে পারবেন, আসলেই এই টিকা কার্যকর কি না।

ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের একজন স্যাম হিলটন। ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটারের এই চিকিৎসক বিবিসিকে বলেন, ‘করোনায় সংক্রমিত হলেও বিসিজি টিকা নিলে আপনি খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন না, এর সপক্ষে একটা ভালো তত্ত্ব রয়েছে। সুতরাং, আমি কিছুটা হলেও সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা দেখছি।’

সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট–এ এক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, করোনার জন্য সুনির্দিষ্ট টিকা আবিষ্কারের আগের শূন্যতা পূরণ করতে পারে বিসিজি টিকা। ওই গবেষণা নিবন্ধের লেখকদের একজন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক চিকিৎসক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস নিজেও।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিসিজি টিকা হতে পারে কোভিড-১৯ বা ভবিষ্যৎ কোনো বৈশ্বিক মহামারির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তবে বিসিজি টিকা কোনোমতেই দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়। এই টিকার কার্যকারিতা সময়ের ব্যবধানে কমে আসে। অর্থাৎ, শিশুকালে যাঁরা বিসিজি নিয়েছেন, বয়স বাড়লে যে তাঁদের শরীর সুরক্ষিত থাকবে, তা বলার সুযোগ নেই।

তা ছাড়া করোনার বিরুদ্ধে লড়তে হলে দেহে অ্যান্টিবডি ও বিশেষায়িত শ্বেতরক্তকোষ উৎপাদনের দরকার পড়ে। দেহের রোগপ্রতিরোধের ব্যবস্থাকে সে পথে নিতে সক্ষম নয় বিসিজি টিকা। সূত্র: প্রথম আলো

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button