
শিরোপা জিততে কী লাগে? সেরা ফরোয়ার্ড লাইনআপ, নাকি দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। হিসেবটা যে সহজ নয়, জার্মানির বায়ার্ন মিউনিখ ও ফ্রান্সের প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের ফাইনালে আসাতেই তার প্রমাণ মিলছে। আসরে গোলের ফোয়ারা ছুটিয়ে বায়ার্ন যেমন ফেভারিট, তেমনি টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কম গোল হজম করা পিএসজির সম্ভাবনাও কম নয়।
আক্রমণ আর রক্ষণের শেষ লড়াইয়ে, কে জিতবে, এখন সেটারই অপেক্ষা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল আজ, বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।
একদল শিকারী সিংহ হলে, আরেক দল ক্ষুধার্ত বাঘ। শক্তি আর গতির নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে এবার ফ্রেঞ্চ জায়ান্ট পিএসজির সঙ্গে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। বায়ার্নের টপ অ্যাটাক রুখে দেয়ার চ্যালেঞ্জ পিএসজির। অন্যদিকে নেইমার, এমবাপ্পেও বায়ার্ন শিবিরের ত্রাস।
সার্বিক পরিসংখ্যান কিংবা সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, এগিয়ে রাখছে বায়ার্নকে। চলতি আসরে আট জয় পিএসজির। অন্যদিকে টানা দশ ম্যাচ জিতে অনন্য রেকর্ড গড়েছে তারা। আর গোল সংখ্যায়ও ঢের এগিয়ে বাভারিয়ানরা। পিএসজির ২৫ গোলের বিপরীতে বায়ার্নের গোল ৪২টি।
মজার বিষয় হলো, দু’দলের ম্যানেজারই জার্মান। তবে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে পিএসজি বস থমাস টুখেল। তার হাত ধরেই প্রথমবার শিরোপার এতো কাছে পিএসজি। অন্যদিকে, ৯ মাসের কোচিংয়ে যে স্বতস্ফূর্ত ছাপ রেখেছেন হানসি ফ্লিক, তার প্রকাশ বায়ার্নের খেলায়। ফ্লিকের হাই লাইন মেথডে ৭ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে বায়ার্ন।
নামের ভারে নেইমার, এমবাপ্পে-লেভানডস্কি বা জিনাব্রির চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু বায়ার্ন খেলে দল হিসাবে। তারপরও আলাদাভাবে ভাবতে হবে লেভানডস্কিকে নিয়ে, আসরে ১৫টি গোল তারা। অন্যদিকে নেইমার-এমবাপ্পে-ডি মারিয়ার সম্মিলিত গোল সংখ্যা ১১।
ফুটবলবিশ্বে মেসি-রোনালদোর পরের নামটি নেইমার। পূর্বসুরী দু’জন এবার ব্যর্থ। এখন পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতলে হয়তো, শুরু হবে নেইমারের রাজত্ব। বায়ার্ন বাধা টপকাতে নেইমারের সেরাটাই লাগবেই। একথায়, আজ রাতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের প্রতীক্ষা ফুটবল ভক্তদের।
মোহাম্মদ হাসিব, বাংলা টিভি



