করোনার থাবায় নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে

করোনার থাবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশের অর্থনীতিতে। পন্য রপ্তানি ও আমদানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। জনজীবনেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। তবে লোকসান ঠেকাতে বিকল্প বাজার খোঁজাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
মহামারি রুপ নেয়া করোনা ভাইরাসে কাঁপছে গণচীন। হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ভাইরাসটি এরইমধ্যে হানা দিয়েছে প্রায় ৩০টি দেশে। তবে এখনো নিরাপদ রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ভাইরাসের আতঙ্ক প্রভাব ফেলছে জনজীবনে।
চীন থেকে যেসব পণ্য বাংলাদেশে আসে সেগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে সঙ্কট। অনেক ক্ষেত্রে সঙ্কটের অজুহাতে বাজারে মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমদানি নির্ভর পন্যের মধ্যে ব্যবসায়ীরা আদা, রসুন, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক, মেশিনারি পণ্য ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
এছাড়া করোনাভাইরাস আতঙ্কের প্রভাব দেখা দিয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও। বন্ধ রয়েছে চীনে কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি। এসব পণ্যের আড়তে ব্যবসায়ীরা যেমন লোকসানে, কাজ হারিয়েছেন শ্রমিকরাও।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৮ তারিখ পর্যন্ত চীন থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫৭৯ টন। গেলো বছরের একই সময় আমদানি হয় ২ লাখ ১৯ হাজার ১৪৯ টন।
এদিকে, মজুদ ফুরিয়ে গেলে কাঁচামালের অভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে দেশে পোশাক শিল্পের উপাদন। কাচা চামড়া নিয়েও বিপাকে ব্যবসায়ীরা। সংকট মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তরগুলো প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোক্তাদের নিয়ে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান ব্যবসায়ী নেতাদের।
নিত্যপণ্য আমদানিতে চীনের বিকল্প বাজার খোঁজার কথা জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আসছে রমজানে বাজার স্থিতিশীর রাখতে টিসিবির পক্ষ থেকে গেলো বারের চেয়ে ১০ গুণ বেশি আমদানি করা হয়েছে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, খেজুর, তেল, চিনিসহ নিত্যভোগ্যপণ।
হাকিম মোড়ল, বাংলাটিভি



