
কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে আরেকটি বছর। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে গোটা বিশ্ব। স্মৃতির খেরোখাতা থেকে ইতোমধ্যেই মানুষ মেলাতে শুরু করছে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব। অন্যসব ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও চলছে সফলতা ও ব্যর্থতার চুলচেরা বিশ্লেষণ।
২০১৮ সালে ১৯২ ফিফা র্যাঙ্কিং নিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ, ২০১৯ সাল শেষ করছে ১৮৭ নম্বরে থেকে। অর্থ্যাৎ পাঁচধাপ উন্নতি জাতীয় দলের। বছরটা খারাপ কাটেনি। বিশেষ করে বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আট ম্যাচের মধ্যে চারটি খেলে, ড্র করেছে একটিতে। ভারতের মাটিতে এই সাফল্য দেশের ফুটবলের মান অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিন্তু মাঠের ফলাফল নিয়ে দর্শক হাতাশা এখনো কাটেনি। তবে ফুটবল সমর্থকদের ভালোবাসায় শিক্ত হয়েছে বাংলা টিভি। কেননা, জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের সব খেলা, সম্প্রচার করেছে বেসরকারি চ্যানেলটি।
নেপালে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান গেমসে, জামাল ভূঁইয়াদের ব্রোঞ্জ পদকপ্রাপ্তি রীতিমত হতাশ করেছে সবাইকে। সমালোচনা উঠেছে কোচ জেমি ডে’র কোচিং স্টাইল নিয়েও। এ বছর মোট আটটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে জাতীয় দল। এরমধ্যে তিনটি করে জয়-পরাজয় আর ড্র হয় দু’টি।
সাফল্য আসে বয়স ভিত্তিক দলগুলোতে। বিশেষ করে নারী ফুটবলে। থাইল্যান্ডে অনুর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ২-২ সমতায় ড্র করে সারা ফেলে দেয় বাংলার নারীরা। সাফের মূল আসরে সেমিফাইনালে খেলা, পরের মাসে ঘরের মাঠে বঙ্গমাতা ফাইনালে উঠার সাফল্যে মুখ থামিয়ে দেয় সমালোচকদের। আর অক্টোবরে সাফ অনুর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয় কৃষ্ণা রানী সরকারের দল।
আর অনুর্ধ্ব-১৫ পুরুষ সাফ টুর্নামেন্টের লিগ পদ্ধতিতে চার ম্যাচে দুটি জয় পায় যুবারা। আর সাফ অনুর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় এন্ড্রু টার্নারের শিষ্যরা। কিন্তু ২০২০ এফসি অনুর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে মাত্র একজয়ে বছর শেষ করে রাকিবুল ইসলামের দল।
এবছরের ১৭ অক্টোবর ফিফা সভাপতির ঢাকা সফর ছিলো উল্লেখযোগ্য বিষয়। তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে বাংলাদেশে এসে, দেশের ফুটবলের প্রতি সাধারণ মানুষের আবেগ দেখে রীতিমত উচ্ছাস প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সবচেয়ে হাতাশার বিষয় ছিলো ফুটবল ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো কান্ড। এ ধাক্কায় নড়েচড়ে বসে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। এবারের ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফুটবল উন্নয়নের জন্য সরকার, বাফুফেকে দেন ২০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ। লক্ষ্য প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
এখন দেখার বিষয়, এই অর্থের সঠিক ব্যবহার কতোটা করে বাফুফে। নয়তো প্রায় চারমাস পর হতে যাওয়া সংস্থাটির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে তা নিশ্চিত করে বলাই যায়।



