
সৌরভ নূর : স্মৃতির এ্যালবামে ৩৪ বছর আগে ৮৫-র প্রথম বিশ্বকাপ কাপ ফুটবল বাছাইপর্বে ঢাকা স্টেডিয়াম ও কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল ও ভারতের মধ্যকার ফুটবল লড়াই। সেবার দু’দলের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ দল লড়াই করেও হেরে গিয়েছিলো ১-২ গোলের ব্যবধানে। সেই লড়ায়ের ম্যাচটি যেন আবার ফিরে এসেছে বাংলাদেশ দলের প্রতিশোধের আগুন নেভানোর সুযোগ হয়ে।
আগামীকাল মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতের বিপক্ষে ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ এশিয়ানকাপ বাছাই পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ ফুটবল দল। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলা টিভি।
সেবার স্বাগতিক দল ভারতের বিরুদ্ধে শুরুটাই ছিলো চমকে ভরা। খেলার গোড়া থেকেই দাপট দেখাতে থাকে বাংলাদেশ দল। ১৫ মিনিটের মাথায় কুশলী ফুটবলার বাদল রায়ের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে মাঝ মাঠের নিপুন কারিগর দলনায়ক আশীষ ভদ্র দারুন দক্ষতায় বল জ্বালে পাঠিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে রাখেন।
কিন্তু ভারতীয় দল খেলায় ফিরে আসে ৩৭ মিনিটের মাথায় বিকাশ পাজির গোলের কল্যানে খেলার শেষ দিকে অনেকটা যেন জিরো এ্যাঙ্গেল থেকেই দর্শনীয় এক গোল করে ভারতকে জয় এনে দেন ক্যামিলো গনসালভেস। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় সালাম মুর্শেদী ও চুন্নু দুদুটো ওপেন নেট হেলায় না হারালে হয়তো শেষ ম্যাচে জয় নিয়েই দেশে ফিরতে পারত বাংলাদেশ।
এরপর ২০১৪ সালের ফিফা প্রীতিম্যাচে সবশেষ ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। পাঁচ বছরের ব্যবধানে আবারো প্রতিবেশি দেশের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামাল ভূঁইয়াররা। সেবার ঢাকা মাঠে বাংলাদেশ একাদশ সাজানো হয়েছিলো গোলকিপার মহসীন, আজমত, বাতেন, অলক, জনি, বাবুল, আশীষ, ইলিয়াস, চুন্নু, আসলাম ও ওয়াসিমকে নিয়ে।
ব্লু টাইগার্সদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ জয় ১৯৯৯ সালের সাফে, ব্যাবধান ছিল ১-০। সুনীল ছেত্রীদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই ম্যাচের রেজাল্ট ড্র ছিল (১-১ এবং ২-২)।
বর্তমান প্রেকক্ষাপটে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দু’দলের পার্থক্য অনেক বেশি হলেও, কাতারের বিপক্ষে জামাল ভূঁইয়াদের পারফম্যান্স বেশ ইতিবাচক। এর আগে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ম্যাচ হয়েছে ২৮টি। এর মধ্যে ইন্ডিয়া জিতেছে ১৫টি, বাংলাদেশ ২ টি এবং ড্র হয়েছে ১১টি। ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ গোল করেছে সর্বমোট ১৭টি, বিপরিতে হজম করে ৩৮টি।
৮৫-র সেই খেলায় আশীষ ভদ্রের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় দল মন ভরাতে পারেনি নিজেদের সেরা খেলাটা উপহার না দিতে পারায়। যে কারনে চুন্নুর দর্শনীয় এক গোল করার পরও হারতে হয়। এবার ভারতের বিপক্ষে ভাল করার প্রত্যাশাটা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে, নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়ে মন কাড়া খেলা উপহার দিক বাংলাদেশ দল, এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।
এশিয়ার ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত বনাম বাংলাদেশ দলের ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ ম্যাচের অপেক্ষায় এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা।



