ফের ভাঙনের মুখে জাপা, ঠাণ্ডা লড়াই প্রকাশ্যে

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির সভাপতি ফয়সাল চিশতি জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে বেগম রওশন এরশাদের নাম ঘোষণা করা হবে। যদিও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত করার জন্য জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরে নাম প্রস্তাব করে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।
তবে দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের চিঠি আমলে না নিতে দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ স্পিকারের কাছে পাল্টা চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জিএম কাদের পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠক ছাড়াই যে চিঠি দিয়েছ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে চলা ঠাণ্ডা লড়াই এবার প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বেগম রওশন এরশাদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের নেতা হওয়ার বিষয়সহ সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।
এ বিষয় বেগম রওশন এরশাদের পরিবারের একজন সদস্যদের মাধ্যমে জানা যায়, যা বলার তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলবেন। এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চান না তিনি। দলটির অপর এক নেতা তার নাম গোপন রাখার শর্তে জানান, এরশাদের জীবদ্দশায়ও রওশন এরশাদ ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলেছে। এখন শুরু হয়েছে দেবর-ভাবির ঠাণ্ডা লড়াই। তিনি আরও বলেন, এই লড়াই দলটিকে আবারও ভাঙনের দিকে নিয়ে যাবে মনে হচ্ছে। সূত্র: সারাবাংলা
বিশেষ করে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সদ্যপ্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে দলটির নেতৃত্ব নিয়ে পার্টিতে দেবর-ভাবির লড়াই শুরু হয়। আর দ্বন্দ্ব যাতে জিইয়ে না থাকে সেজন্য রওশন ও জিএম কাদের রওশন এরশাদের গুলশানের বাসায় একান্তে কথাও বলেন। তাদের ওই আলোচনায় কোনো কাজ হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করার পর বেগম রওশন এরশাদ এর বিরোধিতা করেন। ওই সময় রওশন দলীয় ফোরামে জানিয়েছেন যে, দলটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে। আর না হয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সভায়। এছাড়া সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন তা নির্ধারণ করা হবে পার্টির সংসদীয় দলের বৈঠকে। এক্ষেত্রে জিএম কাদের কোনোটাই মানেননি।
এ প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা মনোনয়ন প্রশ্নে জোর করে কিছু করা হয়নি। জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলের পার্লামেন্টারি বৈঠক না করায় বিতর্ক উঠেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এরশাদ সাহেব যখন বেঁচেছিলেন তিনিও কিন্তু এভাবেই বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। আমাকে বিরোধীদলীয় উপনেতা করেছিলেন। পরবর্তীতে আমাকে সরিয়ে রওশন এরশাদকে উপনেতা করা হয়। তখনও কিন্তু পার্লামেন্টারি পার্টির কোনো মিটিং করা হয়নি। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে কেনো?



