বাংলাদেশ

সীমান্ত সম্মেলন: বিএসএফের পুশইন ও সীমান্ত হত্যার কড়া জবাব দেবে বিজিবি

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে কথিত ‘পুশইন’ এবং সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার (৮ জুন) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন। চার দিনব্যাপী এই বৈঠককে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ বেশ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিজিবি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে।

বিজিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক পুশইনের চেষ্টা শনাক্ত করা হয়। এসব ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিজিবি বলছে, তাদের তৎপরতার কারণে এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি।

সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন ইস্যুই এবারের আলোচনার প্রধান বিষয়। বাংলাদেশের অবস্থান হলো, কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে তাকে গ্রহণে আপত্তি নেই, তবে সে ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে কাউকে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করে।

এছাড়া বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিবেশ দূষণ, মাদক পাচার, সীমান্ত অবকাঠামো, অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধিদলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। আগামী ১১ জুন যৌথ সিদ্ধান্তসংবলিত দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button